বৃহস্পতিবার ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ || সময়- ৯:০২ am
খুন করে পালিয়ে কলার দোকানে চাকরি নেয় ফোরকান

ইনফরমেশন ওয়াল্ড অপরাধ নিউজ ডেক্স
চট্টগ্রাম:-----পাঁচ লাখ টাকা ঋণ ফেরত না দিতে ঋণদাতাকে নির্মমভাবে খুন করে পালিয়ে গিয়েছিল মো.ফোরকান (৩৫) নামে এক দোকানদার।  আত্মগোপনে থেকে ভাতঘর আর কলার দোকানে চাকরি করে দুই বছর পার করে দেয় ফোরকান।  তবে শেষ রক্ষা হয়নি ফোরকানের।
মঙ্গলবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাকে কক্সবাজারের এন্ডারসন রোড থেকে গ্রেফতার করেছে। 
পিবিআই, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো.আব্দুর রহিম বাংলানিউজকে বলেন, ফোরকানের হার্ডওয়্যার ও ইলেকট্রিক আইটেমের দোকান ছিল।  খুনের পর পালিয়ে গিয়ে লোহাগাড়ায় ভাতঘর নামে একটি হোটেলে ফোরকান দীর্ঘদিন কাজ করে।  এরপর কক্সবাজারে গিয়ে এন্ডারসন রোডে একটি কলার দোকানে কাজ নেয়।  সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি হাটহাজারী থানার নাজিরহাট কলেজ রোডের উত্তর পাশে ফোরকানের দোকান ভাই ভাই ইলেকট্রিক এন্ড হার্ডওয়্যারে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।  নাজিরহাট রেলস্টেশনের সাবেক স্টেশন মাস্টার রমানন্দ পালিতকে (৬৫) গলা কেটে হত্যা করে ফোরকান।  এরপর পালিয়ে যায়।
পিবিআই, চট্টগ্রামের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, রমানন্দ পালিত নাজিরহাট রেলস্টেশনে চাকরি করার সময় তার সঙ্গে ফোরকানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হয়।  অবসরে যাবার পর রমানন্দ ফোরকানকে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ দেন।
ঘটনার দিন রাউজান পৌরসভার ঢেউয়াপাড়া এলাকার বাড়ি থেকে রমানন্দ পাওনা টাকা খুঁজতে ফোরকানের দোকানে যান।  দীর্ঘসময় ফিরে না আসায় তার বাড়ি থেকে ফোরকানকে ফোন করা হয়।  এসময় অসংলগ্ন কথা বলে ফোরকান ফোন বন্ধ করে দেয়।
এতে সন্দেহ হলে রমানন্দের পরিবারের লোকজন ফোরকানের দোকানে যায়।  দোকানের পেছনে চটের বস্তায় রমানন্দের রক্তাক্ত গলাকাটা মরদেহ খুঁজে পায় তারা।  খবর পেয়ে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
রমানন্দের জামাতা বিপ্লব খাস্তগীর বাদি হয়ে ফোরকানকে আসামি করে হাটহাজারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।  প্রায় এক বছর তদন্তে হাটহাজারী থানা পলাতক ফোরকানের সন্ধান পায়নি।
এই অবস্থায় গত বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইয়ে পাঠানো হয়।  বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআই পরিদর্শক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। 
তথ্য সূত্র :-বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম